দেশে এখন নির্বাচনের হাওয়া বইছে। সে হাওয়ায় দুলছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, ভোটার এমনকি যারা ভোটার নন তারাও। সবার চোখ আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। কারা হবেন নির্বাচিত বা কারা বসবেন ক্ষমতায়। যদিও এই নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা দেখে ইতোমধ্যে কেউ হতাশ, কেউ ক্ষুব্ধ কেউবা বিস্মিত। তবে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের অনেকগুলোতেই আরো বেশি বিস্মিত হবার মত ফলাফল আসতে দেখা গেছে। ওইসব নির্বাচনের কয়েকটিতে জয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে দুপায়ের মানুষ নয় চারপেয়ে প্রাণী- কুকুর, গাধা, বিড়াল বা ছাগল। খুঁজে দেখা যাক নির্বাচনের সেসব বিস্মিত ফলাফলগুলো।
মেয়র স্টাফ
যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি মেয়র খুজে পাওয়া যাবে না যাদের গা চুলকে দিয়েছে তাদের ভোটাররা। আবার এমন মেয়রও পাওয়া যাবে না যিনি আদুল গায়ে শহরময় ঘুরে বেড়ান আর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সামনেই কুন্ডলি পাকিয়ে মাঝে মাঝে হালকা ঘুমিয়ে নেন। তবে মেয়র স্টাফ এসব কাজ একদশকেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গেই করেছেন। কেননা জনপ্রিয় এ মেয়র রক্ত-মাংসের কোন মানুষ নন ছিলেন জলজ্যান্ত একটি বিড়াল। নিশ্চিত করেই বলা যায় ১৯৯৭ সালে বিড়াল এবং মনুষ্য উভয় সমাজেই নতুন করে ইতিহাস রচনা করেন স্টাফ। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর টকিটনাতে নির্বাচিত মেয়র স্টাফ ১৫ বছর ধরে মেয়র হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
শহরের অধিবাসীরা ১৯৯৭ সালে মানুষ মেয়র প্রার্থীদের ওপর বিতশ্রদ্ধ হয়ে আস্থা রাখেন তখনকার সময়ে বিড়াল শিশু স্টাফের উপর। অনরারি মেয়র নির্বাচিত হন স্টাফ। শহরের ব্যবসায়ীরাও মেয়র স্টাফের উপর খুশি ছিল। কেননা নতুন মেয়র তাদের ব্যবসার ওপর নতুন কোন করারোপ করেননি। স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে অফিস করতেন মেয়র স্টাফ।
সেসময় টকিটনা শহরের অন্যতম পর্যটক আর্কষণে পরিণত হন মেয়র স্টাফ। প্রতিদিন তার সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য ৪০ থেকে ৫০ জন পর্যটক আসতেন। সারাক্ষণ মিউ মিউ করা স্টাফ রেস্টুরেন্টের কাউন্টারে শুয়ে বসে থাকতে পছন্দ করতেন। তবে দুপুরে দর্শণার্থীদের ভিড় স্টাফ একদম পছন্দ করতেন না। কেননা ওই সময় স্টাফ নিয়মকরে হালকা ঘুমিয়ে নিতো। আমরা যেমন দুপুরে খাওয়ার পর ভাতঘুম দিতে পছন্দ করি। স্যোশাল মিডিয়াতেও স্টাফ সমান জনপ্রিয় ছিলো। একসময় ফেসবুকে স্টাফের পেইজের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ছিল ৬ হাজারেরও বেশি। স্টাফ আমৃত্যু মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ২০১৭ সালের ২১ জুলাই ২০ বছর বয়সে স্টাফ মৃত্যুবরণ করেন।
কুকুর-ছাগল যখন প্রেসিডেন্ট
নিউজিল্যান্ডের ওয়ানগামমোনা এলাকায় প্রথম বসতি স্থাপিত হয় ১৮৯৫ সালে। এর ২ বছর পর শহরটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তারপর বন্যা ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানীর কারণে এ শহরের বেড়ে উঠা মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।শহরের জনস্ংখ্যা দ্রুতই কমে যেতে থাকে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, জনসংখ্যার অভাবে ১৯৮৮ নাগাদ শহরের একমাত্র স্কুল ও পোস্ট অফিসটি বন্ধ করে দিতে হয়।১৯৮৯ সাল থেকে তারা শহরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা আরম্ভ করে। প্রথমবার ইয়ান কেজেসট্রাপ নামের এক ব্যক্তি ওই পদে নির্বাচিত হন যিনি প্রায় একদশক দায়িত্ব পালন করেন।
শহরের ক্ষুদ আয়তন আর স্বল্পসংখ্যক অধিবাসীর জন্য শহরবাসী হয়তো ওখানে নির্বাচনকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেনি। তাই ১৯৯৯ সালে শহরবাসী বিলি গামবুটকে তাদের শহরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন।নাম শুনে ভুল ধারণা হতে পারে।তবে বিলি ছিলো একটি ছাগবৎস। বলা হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদন্ধীর ব্যালট পেপার খেয়ে ফেলায় খুব সহজেই জয় লাভ করে বিলি।২০০১ সাল অবধি বিলি শহরের প্রেসিডেন্টের পদে ছিলেন।বিলির পরে শহরের প্রেসিডেন্টের পদে বসেন থাই নামের একটি পেডলার কুকুর। তারপর ২০০৫ সালে অবসরে যাবার পর থাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হন র্মুটলে দ্যা টার্টেল।এই নাম দেখে আবারও ভুল হতে পারে। কেননা র্মুটলে কচ্ছপ ছিলেন না, ছিলেন একজন মানুষ প্রেসিডেন্ট।
দ্যা মিলটন মিউল
যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক হচ্ছে গাধা। ১৯৩৮ সালে এই গাধাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই দল ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। ওই বছর ওয়াশিংটন রাজ্যের মিলটন শহরে রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি বা প্রিসিনঙ্কট কমিটিম্যান হিসেবে একটি খচ্চর জয় লাভ করে। কিভাবে রিপাবলিকানদের এই পদে একটি সত্যিকার গাধা জয়লাভ করলো?
আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতিতে দল বা প্রতীক প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।বলা হয়ে থাকে ভোটারা দল বা প্রতীক দেখে ভোট দেন, প্রার্থী দেখে নয়। ৪০ এর দশকের যুক্তরাষ্ট্রে একই অবস্থা বিরাজ করছিলো। ওই অবস্থার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এবং সিস্টেমের অসংঙ্গতি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার জন্য শহরের মেয়র কিথ সিমনস ‘বসটন কারটিস’ নামের ওই গাধাটিকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাড় করান।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল কাগজপত্রে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গাধার খুড়ের ছাপ ব্যবহার করা হয়।তারপর যা হবার তাই হয়।
কার্যত অন্ধ ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন না জেনেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন বসটন কারটিসকে। পরে ফলাফলে জয়ী বসটন কারটিসকে দেখে সাড়া পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে।এমনকি পরে এই ঘটনা স্থান করে নেয় রিপলিস বিলিভ ইট অর নটেও।
টাইম, সিএনএন, লিস্টভার্স ডট কম অবলম্বনে আনোয়ার হোসেন





No comments:
Post a Comment